শিশুর ভিটামিন ডি এর ঘাটতির লক্ষণসমূহ – জেনে নিন।

শুধু বড়রাই না ছোটরাও ভিটামিন ডি এর ঘাটতিতে ভুগতে পারে। ১২ মাসের কম বয়সি শিশুর প্রতিদিন কমপক্ষে ৫ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন ডি প্রয়োজন। যখন শিশুর ভিটামিন ডি এর চাহিদা পূরণ না হয় তখন তার হাড়ের গঠন ভালোভাবে হয়না। ভিটামিন ডি এর অভাবে শিশুদের শরীরে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের শোষণ ঠিকমত হয়না বলে রিকেটস রোগ হয়। সাধারণত ৬-৩৬ মাস বয়সের শিশুদের রিকেটস রোগটি হয়ে থাকে। শিশুর ভিটামিন ডি এর ঘাটতির লক্ষণগুলো জেনে নিই চলুন।

১. মাথার খুলিতে খাজ পড়াঃ- শিশু ভুমিস্ট হওয়ার ১৯ মাস পরে তার মাথার খুলি শক্ত ও উন্নত হতে শুরু করে। এর মধ্যে যদি সে পর্যাপ্ত ভিটামিন না পায় তাহলে খুলির বৃদ্ধির প্রক্রিয়াটি ধীর গতির হয়। তখন শিশুর মাথায় স্পর্শ করলে বুঝতে পারবেন যে খুলি বেশ নরম আছে এবং এতে টোল বা খাজ পরে।

২. ব্যথা এবং পেশীর দুর্বলতাঃ- যদি শিশুর হামাগুড়ি দিতে বা অল্প সময় বসে থাকতে সমস্যা হয় তাহলে এটি হতে পারে রিকেটসের কারণে তার পেশীর দুর্বলতা বা ব্যথার জন্য। ব্যথার কারণে শিশুর মেজাজ খিট খিটে হয়ে যায়।

৩. ইনফেকশনের পুনরাবৃত্তি হওয়াঃ- অনেক গবেষণাতেই ভিটামিন ডি এর ঘাটতির সাথে ইনফেকশনের পুনরাবৃত্তির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। যদি আপনার শিশু সন্তান ঘন ঘন ঠান্ডা বা ফ্লুতে আক্রান্ত হয় তাহলে শিশু বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলে ও এক্সরে টেস্ট করিয়ে জেনে নিন তার ভিটামিন ডি এর ঘাটতি আছে কিনা।

৪. রেসিটিক রোজারিঃ- শিশুর ভিটামিন ডি এর ঘাটতির প্রধান লক্ষণ হচ্ছে তার হাড়ের বিকৃতি। যদি শিশুর বুকের খাঁচার মাঝখানের হাড়টিকে দেখা যায় তাহলে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে রেসিটিক রোজারি বলে। এটি হয়ে থাকে ক্যালসিয়ামের ঘাটতির কারণে।

৫. বৃদ্ধি বিলম্বিত হওয়াঃ- মারাত্মক পর্যায়ের ভিটামিন ডি এর ঘাটতির ফলে বা রিকেটস এর জন্য শিশুর বৃদ্ধি বাধাগ্রস্থ হয়। এছাড়াও সে তার নিজের ওজন বহন করতেও সমর্থ হয়না। তার হাত-পা ফোলা দেখায়। এছাড়াও ভিটামিন ডি এর ঘাটতির ফলে শিশুর দাঁত উঠতে দেরি হয়, শ্বাসকষ্ট হয়। ভিটামিন ডি এর ঘাটতি পূরণের জন্য সাপ্লিমেন্ট সেবনের পরামর্শ দেয়া হয়।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*